কোলাজ

                                     

কাল ছিল ডাল খালি, আজ ফুলে যায় ভরে, বল দেখি তুই মালি, হয় সে কেমন করে

শেষের কবিতা পড়তে গিয়ে, গল্পের চেয়ে, গল্পের পরে লেখা কবিতা এবং কবিতা-র ছন্দ নিয়ে লেখা ”epilogue” পড়তে যারপরনাই ভাল লেগেছিল ।জানি না সেটি রবীন্দ্রনাথের নিজের লেখা নাকি বিশ্বভারতীর সংযোজন।চিরটা কাল মনে হয়েছে , মানুষ দুঃখের গল্প, দুঃখের কবিতা -এইসব কেন লেখে ? দুঃখের সিনেমা দেখে গাঁটের কড়ি খরচা করে।জীবনে কি দুঃখ কম  এমনিতে ? তাকে শখ করে লেখার পাতায় টেনে আনার দরকার কি? শেষের কবিতা যে বয়েসে পড়েছিলুম , সে বয়েসে বোঝা অসাধ্য ছিল, কিন্তু এটা বুঝেছিলুম যে শেষে নায়ক-নায়িকার মিল নেই।তাতে অমিত আর বন্যা-র বিশেষ ক্ষতি বৃদ্ধি হয়নি, কিন্তু আমার রবি ঠাকুরের উপর খুব রাগ হয়েছিল।লোকে তোমায় বিশ্বকবি বলে, আর তুমি গল্প লিখে এইভাবে তাদের কষ্ট দাও? গল্প উপন্যাস পড়ার আনন্দে পড়ে গিয়েছি বটে , কিন্তু গল্পের শেষে বসে আফসোস করতে কক্ষনো ভাল লাগেনি।তাই যে গল্পে বা সিনেমায় ‘tragic end’ তা আমি একবারের বেশি দু বার দেখিনি বা পড়িনি ।ছোটবেলায় শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখা অদ্ভুতুড়ে গল্প পড়তে যে আনন্দ পেতুম আজ ও তাই পাই , আর এগুলোই বারবার পড়ি।

জন্মেছি শস্যশ্যামলা বাংলায় যার শুধু উত্তর দিকে একফালি হিমালয় আর পশ্ছিমের ডানায় লাল মাটি আর শালের জঙ্গল।বহু খুঁজে পেতে একটি দুটি পাহাড় চোখে পড়ে।তা সেও ত সেই ভূগোল বই তে যা পড়া।ছোটবেলায় কল্পনা ছাড়া আর আমার সঙ্গী বিশেষ কেউ ত ছিল না ।এক লহমায় বুদ্ধ দেব গুহ ‘র বর্ণনা পড়ে পালামোউ এর জঙ্গল এর মধ্যে হারিয়ে যেত মন টা।কখনো বা রাজগির, কখনো দেওঘর, কখনো গিরিডি , কখনো মধুপুর…রাজ্রাপ্পার ছিন্নমস্তার মন্দির আর কোডারমা’র ভুতুড়ে অভ্রখনি…কত লেখকের লেখায় ঘুরে ফিরে পড়েছি ছোটনাগপুর মালভুমির এই সব অঞ্ছলের কথা, এখানকার মানুষদের জীবন যাত্রা আর ভাষা, খাওয়া দাওয়া আর গানবাজনার কথা।  বাবার উপর কতবার রাগ হয়েছে , কাজের তাঁর এত চাপ যে কোনদিন এইসব জায়গা গুলোয় বেড়াতে নিয়ে গেলেন না বাড়ির কাছে দীঘা ব্যাস ওই আমাদের বেড়ানোর জায়গা সমুদ্রের এত কাছে থাকতুম বলেই বোধ হয় পাহাড় দেখতে আমার এত ভাল লাগে

সুযোগ এল বড় হয়ে । যখন কাজের জন্যে দিল্লি এলাম । পথে ট্রেন এর জানলা থেকে দেখা পরেশনাথের পাহাড় আর কোডারমার জঙ্গল। গোমো’র পর থেকে শুরু হয় এবড়ো-খেবড়ো পাথুরে মাটি আর তাল-খেজুরের সারি, দূরে দেখা যায় সারি সারি পাহাড়…আর কোডারমা পেরোলে শুরু হয় জঙ্গল । পথে পাহাড় কেটে তৈরি করা তিনটে সুড়ঙ্গ পড়ে । খুব ভোরে একজন একশ বছর বয়েসি বুড়ো লাইনসম্যান কে দেখলুম সবুজ আলোর লন্ঠন ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছে … ভোরের অল্প আলোয় তাকে ভৌতিক বলে মনে হল…।

বিয়ের পরে শ্বশুরবাড়ি এসে ভারি আনন্দ হল । ছাতে উঠলে পাহাড় দেখা যায় যে ! ধানবাদ শহরেই রয়েছে ভুঁইফোড় পাহাড় আর গিরিডির পথে, কিম্বা মাইথন এর দিকে যেতে গেলে পাহাড়ের সারি । আর কি চাই !

To be continued…


Advertisements

One Comment

  1. Posted May 31, 2011 at 6:27 pm | Permalink | Reply

    thanks for dropping by,
    judio bangla e khub ekta dokhol nei keno na prabasi bolei, tobe shesher kabita parechi, khub bhalo legeche… ar tomar lekha tao….

    keep it up
    Sukanya

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: